দুর্নীতির রাজপুত্র সিভিল এভিয়েশনের ইঞ্জিনিয়ার তারেক
সিভিল এভিয়েশনের
সহকারী প্রকৌশলী তারেক আহাম্মেদকে ঘিরে একের পর এক দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। আইন-কানুনকে তোয়াক্কা না করে তিনি গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির এক অঘোষিত সাম্রাজ্য। আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, আত্মীয়ের নামে লাইসেন্স নিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্য—সব মিলিয়ে এখন তাকে সিভিল এভিয়েশনের “দুর্নীতির রাজপুত্র” বলা হচ্ছে।
বদলির কাগজ আটকে রাখা
গত ১০ বছরে তাকে সিভিল ডিভিশন-১ থেকে অন্য কোথাও বদলি করা যায়নি। নতুন প্রধান প্রকৌশলী বেশ কয়েকজন প্রকৌশলীর বদলির জন্য প্রশাসন শাখায় কাগজ পাঠালেও, তারেক টাকার প্রভাব খাটিয়ে সেই ফাইল আটকে রাখেন। ফলে কর্মকর্তারাও তার টাকার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
কোটি টাকার রড-স্ল্যাপ বাণিজ্য
অভিযোগ রয়েছে, সাব-কন্ট্রাক্টর মালেকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইঞ্জিনিয়ার তারেক কোটি টাকার রড ও স্ল্যাপ বিক্রি করেছেন অবৈধভাবে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ঠিকাদারের সঙ্গে অংশীদারি করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি। অথচ হেডকোয়ার্টার থেকে শুরু করে বিল্ডিং ম্যানেজার পর্যন্ত অনেক কর্মকর্তা নীরব দর্শক।
সরকারি সম্পদের বেপরোয়া ব্যবহার
সরকারি দায়িত্বে থেকেও তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থে সরকারি গাড়ি ও জ্বালানি ব্যবহার করছেন। ঠিকাদারী ব্যবসায়ী পার্টনার বন্ধুদের সঙ্গে টার্মিনাল থেকে টার্মিনালে ঘুরে বেড়ানো যেন তার নিত্যদিনের কাজ। রাষ্ট্রের সম্পদ যেন তার ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হয়েছে।
আইনের চোখে সরাসরি অপরাধ
সরকারি চাকরির আচরণবিধি ১৯৭৯ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মকর্তা নিজের বা আত্মীয়-স্বজনের নামে ঠিকাদারি ব্যবসায় জড়িত থাকতে পারেন না। অথচ তারেক প্রকাশ্যে সেই আইন ভঙ্গ করছেন। এটি “conflict of interest” এবং ক্ষমতার নগ্ন অপব্যবহার। সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধে চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দুর্নীতি
অভিযোগ আরও গুরুতর—ইঞ্জিনিয়ার তারেক আওয়ামী লীগের ছত্রছায়া ব্যবহার করে দুর্নীতির আখড়া গড়ে তুলেছেন। আত্মীয়-স্বজনের নামে লাইসেন্স নিয়ে কোটি টাকার কাজ ভাগাভাগি করা তার পুরোনো কৌশল। অনুসন্ধানে প্রমাণ মিলেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন।
অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি
সংশ্লিষ্টরা বলছেন—ইঞ্জিনিয়ার তারেকের আর সরকারি চাকরিতে বহাল থাকার কোনো নৈতিক বা আইনগত অধিকার নেই। সাধারণ ঠিকাদার থেকে শুরু করে কর্মচারীদের জোর দাবি, এই দুর্নীতির রাজপুত্রকে অবিলম্বে দুদকের তদন্তের আওতায় এনে রাষ্ট্রের সম্পদ আত্মসাত ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।

